যে পাঁচ ক্রিকেটারকে মিস করবে ভারত বিশ্বকাপ - স্টেডিয়াম

বুধবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৩

যে পাঁচ ক্রিকেটারকে মিস করবে ভারত বিশ্বকাপ

বিশ্বকাপে খেলতে পারাটা যেকোনো ক্রীড়াবিদের জন্য স্বপ্ন। চারটা বছর হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করেন বিশ্বকাপের দলে জায়গাটা পাকা করতে। তবে শেষ মুহূর্তে এসে বাদ পড়াটা স্বাভাবিক ভাবেই বেশ কষ্টের। তারকা ক্রিকেটার হলে তো কষ্টটা ছুঁয়ে যায় সমর্থকদের হৃদয়েও। বেশিরভাগ ক্রিকেটারদের জন্য ওয়ানডে বিশ্বকাপ এমন একটি টুর্নামেন্ট, যে টুর্নামেন্টের জন্য মুখিয়ে থাকে ক্রিকেটাররা। কিন্তু অনেক সেরা খেলোয়াড় টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়েন ইনজুরির কারণে, কিংবা কখনও কখনও পারফরম্যান্স অথবা দলীয় সিদ্ধান্ত বা অস্থিরতার কারণে। সংবাদমাধ্যমআল জাজিরাতাদের প্রতিবেদনে তেমনই পাঁচ ক্রিকেটারের নাম উল্লেখ করেছে, যাদের মিস করবে বিশ্বকাপ। আগামী অক্টোবর থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত ভারতে আয়োজিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে তারা থাকবেন অনুপস্থিত।

 


তামিম ইকবাল: বাংলাদেশ

ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ব্যাটার এবং বাংলাদেশ দলের সর্বকালের অন্যতম সেরা ওপেনার ধরা হয়ে থাকে তামিম ইকবালকে। কিন্তু বিশ্বকাপ দল ঘোষণার দিন নির্বাচকরা তাকে ছাড়াই চূড়ান্ত দল ঘোষণা করে।

 

তামিম দেশের হয়ে ২৪৩টি ওয়ানডেতে ১৪টি সেঞ্চুরি সহ হাজার ৩৫৭ রান করেছেন, কিন্তু চোটের কারণে গত কয়েক মাস ধরে ভুগছিলেন। গত জুলাইতে হুট করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেয়ার পরদিন আবারো ক্রিকেটে ফেরার কথা জানান। এর আগে তার নেতৃত্বে বিশ্বকাপ সুপার লিগে দুর্দান্ত খেলে নম্বরে থেকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। তবে প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে দলে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ খেলা হলো না তামিমের।

 

নাসিম শাহ: পাকিস্তান

নাসিম শাহ বর্তমান পাকিস্তানের দলের অন্যতম সেরা পেস বোলার। এশিয়া কাপে হারিস রোউফ-শাহীন আফ্রিদিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ২০ বছর বয়সী এই পেসার ১৪ ম্যাচে .৬৮ ইকোনমি রেটে বোলিং করে আটকে দেন ব্যাটারদের।

শুধু বোলার নাসিম নন, ব্যাট হাতেও শেষ দিকে রান তাড়া করতে বেশ দক্ষতা দেখিয়েছেন তিনি। কিন্তু গত মাসে ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের ম্যাচে কাঁধে চোট পাওয়ায় নাসিমকে ছাড়াই বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে গেল দল। পাকিস্তানের নির্বাচকদের মতে তিন থেকে চার মাস লাগবে ইনজুরিতে থেকে সেরে উঠতে।

 

জেসন রয়: ইংল্যান্ড

জেসন রয়ের জন্য বেশ হতাশার এই বিশ্বকাপের আসর। ইংল্যান্ডের প্রাথমিক দলে থাকলেও ১৫ সদস্যের চূড়ান্ত দল থেকে বাদ পড়ে যান এই ওপেনার। রয় ইংল্যান্ডের সাদা বলের সেরা খেলোয়াড়দের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। সাবেক অধিনায়ক এউইন মরগানের অধীনে ২০১৫ বিশ্বকাপে বেশ হতাশাজনক পারফরম্যান্স দেখালেও ২০১৯ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের একজন ছিলেন (সাত ম্যাচে ৪৪৩ রান) রয়। বিশ্বকাপ জয়ে দারুণ ভূমিকা রেখেছিলেন জেসন।

৩৩ বছর বয়সী এই ওপেনিং ব্যাটার ইনজুরির কারণে ইংল্যান্ড দলে আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন। গত মাসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের সময় পিঠে ব্যথার কারণে বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়ে যান।

তার বাদ পড়া নিওয়ে অধিনায়ক জস বাটলার বলেছেন, ‘ভাল খেলোয়াড়রা প্রায়ই বড় টুর্নামেন্টগুলো মিস করে।

 

ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা: শ্রীলঙ্কা

খুব কম সময়েই শ্রীলঙ্কা দলের তারকা খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন লেগ স্পিনিং-অলরাউন্ডার ওয়ানিন্দু হাসরাঙ্গা। এই লেগ-স্পিনিং অলরাউন্ডার ওয়ানডে ক্রিকেটে ৬৭ উইকেটের মধ্যে তিনবার পাঁচ উইকেট শিকার করেছেন। এছাড়া ৮৩২ রানের মধ্যে রয়েছে চারটি হাফ সেঞ্চুরি।

তবে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) চলাকালীন চোট পাওয়ায় খেলতে পারেননি এশিয়া কাপে। এরপর বিশ্বকাপ টাকে দলে পেতে শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করেও পাওয়া হয়নি।

২৬ বছর বয়সীর হাসারাঙ্গার অনুপস্থিতি ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নদের জন্য একটি বড় ধাক্কা। কেন না তিনি গত দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন এবং সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দলের সবচেয়ে সফল বোলার তিনি।

তবে আসর চলাকালীন দলের কোনো সদস্য ইনজুরিতে পড়লে হাসারাঙ্গাকে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড।

 

মাইকেল ব্রেসওয়েল: নিউজিল্যান্ড

জুন মাসে ইংলিশ কাউন্টির একটি ম্যাচে অ্যাকিলিসের চোটের কারণে বিশ্বকাপ দল থেকে ছিটকে পড়েছেন নিউজিল্যান্ডের ২০২২ সালের ওয়ানডে প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ার মিচেল ব্রেসওয়েল। ৩২ বছর বয়সী ব্রেসওয়েলের অনুপস্থিতি অনেক বড় ধাক্কা গতবারের রানার্স-আপ দলটির। যেকোনো পজিশনে ব্যাটিং করতে পারা ব্রেসওয়েল অফ-স্পিন বোলিংটাও বেশ ভালো করেন।

ব্রেসওয়েলকে দল না পেয়ে নিউজিল্যান্ডের কোচ গ্যারি স্টেড বলেছেন, ‘ব্রেসওয়েল একজন দারুন টিম ম্যান। একটি ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং তিনটি ক্ষেত্রেই সমান ভূমিকা রাখতে পারা একজনকে না পেয়ে আমরা সত্যিই হতাশ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন